পোস্টগুলি

কবিতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সুন্দরীর উপাখ্যান

ছবি
 নাফিসা ইয়াসমিন হোগাল ছাওয়া ঘরের দ্বারে,  গরম ভাতের হাঁড়ি রেখে । মধুর খোঁজে যাই হারিয়ে,  সুন্দরী ঐ বনের মাঝে । দামি নয় কাঠ যে তার,  জ্বালানিছাড়া তেমন নেইকো দরকার। পেটের দায়ে তবুও যাই,  ছোটো নৌকার দাঁড়টি বাই । জাতীয় উদ্যানের শিরোপা তার,  দুনিয়ার কাছে অপার বিস্ময় ।  ভূ-ভারতে নেই যে আর,  রাজকীয় এমন বাঘের আসর । কালের সকল নিয়ম মেনে,  উন্নয়ণের ঢেউ এর তালে । পর্যটন আসলো ঘরের দোরে,  নানাবিধ বিলাসিতা গাছগাছালির দফারফা । প্রকৃতি প্রেমী তকমা নিয়ে,  ভিড় জমলো রিসোর্ট ক্রুসে ।  ভয়পেয়ে সে রাজার রাজা,  ভাগলো গভীর জঙ্গলে । কাঠ হোক বা মধুরমোহ,  জঙ্গল ডাকে আজ এখনও। মাছ -কাঁকড়া বেঁচে তবে,  চাল ডাল আসবে ঘরে । থাকা খাওয়া দুটোই অপ্রতুল,  সহজ নিশানা মানুষ এখন।  বাঘ বিধবা বাঘে খাওয়া,  ঘরে ঘরে দক্ষিণরায়ের দয়া। সস্তা-দামী প্যাকেজ ট্যুরে,  ইলিশ উৎসব আর নেশার টানে। বনবিবির আজ বিরাগ ভাজন,  বিশ্ব ঐতিহ্যর ধূলায় অঙ্গন । *ছাত্রী, ২০০১

পৃথিবীর উপাখ্যান

ছবি
নাফিসা ইয়াসমিন পৃথিবীর আছে আপন নিয়ম,  গড়বে ভাঙবে সৃষ্টি সকল।  টগবগিয়ে প্রবল উষ্ণ হয়ে,  তুষার যুগকে আনবে ডেকে । নতুন প্রাণকে বাসে ভালো,  পুরনোকে সে দেয় বিদায়।  কালের এমন সঠিক নিয়মখানা,  চলছে না-জানা লংগ্ন থেকে ।  এল-নিনোর দুষ্টুমি ছিলো আছে,  থাকবে লা-নিনাকে সঙ্গে নিয়ে। ঠাণ্ডা জলকে দূরে ঠেলে,  বাণিজ্য বায়ুকে দুর্বল করে। সময় অনেক দিয়ে ছিলো,  আধুনিক মানব এই সভ্যতাটাকে ।  বিজ্ঞান প্রযুক্তি জ্ঞানের দম্ভে,  মানুষ তবে ব্যর্থ এ জীবনে। উন্নয়ণ, সে যে অবশ্যম্ভাবী,  আকাশ চূড়ায় জয়ের ঢাক ।  কলঙ্কিত হলো সে যে,  অপরিকল্পিত সকল রূপ রেখায় । নিজের সুবিধা বুঝবে মানুষ,  নেই কোনোযে দোষ সেথায়। বেশি পাবার লোভে বশে,  যাবার বেলা দ্রুত ঘনায়। পৃথিবী আজ চায়না এমন,  শৃঙ্খলা হীন মানব সমাজ।  এলনিনো তাই আসছে ঘুরে,  সাতের জায়গায় দুই বছরে । বাড়ি রাস্তা আর সুখসুযোগ, সব থাকবে বাস্তব জীবন। পরিকল্পনা কেবল সঠিক চাই,  বাঁচাতে এই মানব কুল। সঠিক জায়গায় সঠিক গাছ,  মিষ্টি জলের ন্যায্য ব্যাবহার । মাটির সন্...

চোর এবং চুরি

ছবি
জীনাত্ সানজিদাহ্  জগতে চোর নয় কে ?   সবাই চুরি করে কেউ যেমন ঘটি বাটি চুরি করে তেমনি কেউ চুরি করে বিশ্বাস , ভরসা কেউ চুরি করে স্বাচ্ছন্দ । যা পাওয়ার কথা ছিল না তা দাম না দিয়েই কেড়ে নেয় ছলে বলে কৌশলে যার থেকে কেড়ে নেয়া হচ্ছে সে হয়তো জানতেও পারেনা। আর .... যদি ইচ্ছে হয় চুরি করার ‌ তাহলে মানুষের মন ই   চুরি করবেন না হয় । ' চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা যদি না পড়ো ধরা '                                                                                                                                                            ...

সময় হয়েছে

ছবি
 সোহিনী কোলে আজ সময় হয়েছে- নিজের মত প্রকাশ করার । সময় হয়েছে, নতুন করে জগত চেনার । আজ সময় হয়েছে , না বলার আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ।। হারিয়েছি আমরা মনুষ্যত্ব । জীবনে শুধু রাজনীতির ব্যস্ততা, বানিয়েছে আমাদের নিরুপায় । হারিয়ে গেছে সেই শিখা , যা ছিল ইতিহাসের পাতায় ।। সময় হয়েছে, ঠিক-ভুল বোঝার । সময় হয়েছে , জগতকে পালটে, হাতে হত রেখে এগিয়ে চলার ।। আর কবে ফিরব আমরা নিজেদের পথে, আর কবে বিচার পাবে তিলোত্তমা, আর কবে স্বাধীন হয়েও স্বাধীন হব মন থেকে ।। সময় হয়েছে , মহা-সংগ্রামে যোগ দেওয়ার । আর মানবো না , এই অবিচার-অত্যাচার । এসো একসাথে এগিয়ে চলি , নব-জাগরণের দিশায় ।। *ছাত্রী ,পঞ্চম অর্ধবর্ষ, ২০২৪

ধ্রুবতারা

ছবি
সুদীপা সরকার আকাশ পানে চেয়ে থাকি, জ্বলছে একটি তারা। নাম না জানা মুক্ত পাখি  উড়ছে বাঁধনহারা। হঠাৎ সেই পুবের হাওয়ার মিষ্টি আকর্ষণে সর্বসুখের অধিকারী একাই এ ভুবনে।  নীল আকাশে ঘুরছে শুধু করছে একাই রাজ, মুখে তার দৈব আলো ভরা আছে লাজ। এই মধুর আবেশে হৃদয় বিকল,শরীর শীতল, তারার কাছে পৌঁছানোর আনন্দে হারিয়েছে তল। *ছাত্রী, ৫ম অর্ধসাম্মানিক 

শৈল শিখর

ছবি
 পাপিয়া চৌধুরী  ইচ্ছে জাগে শরীরের সমস্ত শক্তির নির্যাস একত্রিত করে তোমার কাছে এক দৌড়ে ছুটে চলে যাই। তুষার ধবল চির তারুণ্যে ভরপুর গিরি শৃঙ্গ তুমি তোমার অবর্ণনীয় তুলনা শুধুই তুমি  তোমার পাকদন্ডীর পথ পদে পদে বিপদসংকুলনতা ব্লিজার্ড গিরিখাতের আকর্ষণের মোহের আবদ্ধে মোহান্বানিত। তুমি দুর্গম তুমি স্থির তোমার রূপের ছটায় আমার শরীরে  খেলে যায় বিদ‍্যুৎ তরঙ্গের স্রোত  তাই তো তোমার হাতছানি উপেক্ষা করা অসহনীয়। তুমি ধরণীকে করেছো উর্বর তোমার স্রোত ধারায় নদীই সভ‍্যতা কে প্রাণদান করেছে। তোমার জলপ্রপাতের ধারা বসুন্ধরা কে দিয়েছে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা, তোমাকে আশ্রয় করেই জীবজগৎ সাজিয়েছে তার সাংসারিক বিস্তার। হিমের আলোর শোভায় আলোকিত  স্বর্ণাজ্জ্বল তুমি  তাই তো অভিযাত্রীদের মনের  বাসনা ও তুমি লক্ষ্য ও তুমি। তুমি ও মনোগ্রাহী অপরূপা  ভুবনমোহিনী শৈল শিখর। *ছাত্রী, ১৯৯৯

দরকার

ছবি
 নুদরত ফিজা দরকার শেষ, কাজ   শেষ' মানুষের সঙ্গে আলাপ ও শেষ। পৃথিবী টাই এইরকম।  বোকা হয়ে আবার ভাবছি বোকা হওয়া এবার মনে হয় শেষ  ।   কাজ নেই যখন আমি ও নেই তখন, কাজ দরকার আসবে যখন আমায় মনে পড়বে তখন।   আবার বোকা হয়ে যাব, একটু হেসে আবার নেব; কাজ যখন আসবে ঠিক তখন নিশ্চই   ডাকবে। সব যখন পূরণ হবে হাসি মুখে বিদায় দেবে।   ক্ষণিকের আনন্দে আত্মহারা মন হয়ে যায় বেপরোয়া; আহা,   সবাই কত আমায় ভালোবাসে- সর্বহারা করার আগে।   মুখ থুবড়ে পড়লাম যখন বাবা হাত ধরে তুললো তখন, বললো মৃদু হেসে  ' মা কি হলো আমি তো আছি তোর কাছে সর্বক্ষণ'। *প্রাক্তন ছাত্রী, ২০২২

সময়

ছবি
 নুদরত ফিজা সময় চলে নিজের মতন তোয়াক্কা করে না আমরা বরং খাপখাওয়াই নিজেকে সময় এর দাসের মতন।   অনেক কথাই মনে পরে অনেক স্মৃতি   জুড়িয়ে যায়  আগের সময় ফিরে এলে রাখতাম তাকে আগলে ধরে।   মনে হচ্ছে অনেক সময় চলে গেছে পার করে তখন তাকে মূল্য দিনই তাই বুঝি সে রাগ করে।    সেও গেছে পর করে সেই অনেক দূর দুরন্তে  যেখানে সে ভালো থাকবে তাই আমিও রাখিনি তাকে আপন করে।   জোর করে কি সব জেতা যায় এই জীবনে নাহয়   হেরেই গেলাম  অপেক্ষা করে মন তবুও মন কে তাই আশ্বাস দিলাম।   বোকা মন শোনেনা বারণ এখনো ভাবে সবাই কে আপন আরে ধুর পাগল তুই বোকা অনেক এই জীবনে কেউ নেই আপন। *প্রাক্তন ছাত্রী, ২০২২

জীবন ধারা

ছবি
সঙ্গীতা সেন   ধূসর ওই তটের পরে , শঙ্খ ঝিনুক আঁকে বাঁকে।      মাথার পরে কৃষ্ণঘন ঝরায় বারি শিশিরসম। ক্লান্তক্লেশে স্তব্ধ পথিক, দৃষ্টি মেলে নীলের পর। ছোট্ট খেয়া উজান বায় , তীরের পথিক ভাসতে চায়। হিয়ার মাঝির পরানখানি ছুঁইছে তটের পাথরখানি। শ্রান্ত পথিক বাইতে যায় ,   নাইকো তার কোথাও ঠায়। দুই পরানের মহামিলন তটের রেখায় আত্মকথন , সাগরতীরের শুভ্রচাদর মেলায় স্মৃতি জীবনভর।। *ছাত্রী, ২০১৩

গোধূলি

ছবি
  মন্দিরা রায়   আগুন রঙা মেঘের ভেতর পুড়ছে হৃদয় কার ? যন্ত্রনা আর হাহাকার এর নিশ্চুপ চিৎকার।  যাওয়ার বেলায় এ রাঙা রং ছড়িয়ে দিয়ে বুকে , বলতে কি চাও ! সন্ধ্যে আঁধার নিয়ে একাকার থাকবো আমি সুখে !   রাঙা আগুন বুকে নিয়েই হাসবো জয়ের হাসি , যতই ভরুক আকাশ জুড়ে কালো মেঘের রাশি।   রাঙা মেঘের রাঙা আলোয় নব বধূর সাজে , অপরূপা মিষ্টি মধুর হাসি ঝরে লাজে। কার বুকেতে আগুন দিয়ে যাচ্ছো তুমি বঁধু ? নাকি , তোমার বুকেও চিতার আগুন , হাসছো মুখে শুধু !   গনগনে রং ছড়িয়ে যেথায় ওই আকাশের বুকে , দুঃখরা সব পুড়ে পুড়ে সেথায় থাকে সুখে।

অব্যক্ত

ছবি
মন্দিরা রায় কানাচ ছুঁয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে অক্ষর  শব্দ ব্রহ্ম তৈরী না করে। এক অক্ষর ছুঁয়ে বসে আছে  অক্ষাংশ   কালের নির্দেশেও স্থানচ্যুত হবে না বলে। নক্ষত্র পতনের সাক্ষী থাকলেও তার হিসাব রাখে না মহাকাশ, শুধু দেখা মেলে উজ্জ্বল ভগ্নাংশে কোনো রাতে। অষ্টবসুর  মন্ত্রনাসভাতে চাঁদ সূর্যের পালা সরগরম হলেও, মহাশূন্যে কাব্য আঁচড় কাটে না। কালপুরুষ নিশ্চল প্রহরায়। তবু আসে সৌর ঝড় কিছু অচঞ্চল, ভাষা ফোটে চাঁদের বুকে কলঙ্কতে, বৃষ্টিতে মাঠে ঘাটে অবিশ্বাসী তাড়নার কলমে। *ছাত্রী, ১৯৯১                         

শূন‍্য

ছবি
পাপিয়া চৌধুরী  প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে 'শূন‍্য' - এর আবিষ্কার  সমগ্র বিশ্বের অতীব গুরুত্বপূর্ণ  বিবর্তনের পরিবর্তনের  সূচনা। 'শূন‍্য' তুমি শুধু তো কোন সংখ্যা নও 'শূন‍্য' তুমি শুধু তো কোন গাণিতিক ফল নও 'শূন‍্য' তোমার নিজস্ব নেই কোন অস্তিত্ব  'শূন‍্য' তবুও তুমি এই জগতের ভারসাম‍্যের বাহক তোমার দানেই তুমি অন্য কে করো অনন্য। 'শূন‍্য' থেকেই শুরু এ জীবনের সোপান  'শূন‍্য' - ই জানতে সাহায্য করে             এই সাংসারিক জগতের মমত্ব মায়ার বন্ধন 'শূন‍্য' - ই তো পারে            আধ‍্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটাতে। আমি কে?      'শূন‍্য' তেই তো থাকে উত্তরের দিশা  আমার কর্ম কি?  'শূন‍্য' - ই বলে দেয় কর্মের উদ্দেশ্য। 'শূন‍্য' এক গোলাকার আক‍ৃতির চিহ্ন আর জীবনের গতি যদি মনে করি শূন্যেরই চাকা জীবনের সমাধান তো তাহলে বলতেই পারি - শূন্যেই যে চলার সূত্রপাত, শূন্যেই হয় তার সমাপ্তি  মাঝে রয়ে যায় নানান  যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের তাত্ত্বিকতার আড়ম্বরপূর্ণ জাঁকজমকের বাহার।। *ছাত্রী, ১৯৯৯ 

একটি মেয়ের প্রশ্ন

ছবি
 নুদরত ফিজা মেয়ে হয়েছে শুনছো সবাই নাম তার স্বাক্ষী, প্রশ্ন তাহার অনেক আছে উত্তর দেবে কেউ কী? মেয়ে হয়ে জন্মেছি, দোষটা কি আমার! তাহলে কেন আমার সাথেই এমন অবিচার? বড়ো হয়ে উঠতেই জন্মালো এত বাধ্যবাধকতা, ছেলেদের সঙ্গেও হয় বুঝি এমন সীমাবদ্ধতা! মেয়েদেরই কেন বলা হয় সব কিছু মানাতে  মেয়েরা কী পারেনা কিছু বিষয় এড়াতে? মেয়েদেরই কেন বলা হয় শিক্ষিত হয়ে লাভ কী?  সেইতো শ্বশুরবাড়িতে হাড়ি চুলাই ধরবি!  মেয়েরা কি কোনো বস্তু যে দান করতে হবে, কেন কন্যাদান প্রথা চলছে আজও অবাধে? মেয়েদের জন্য ধার্য বাপেরবাড়ি শ্বশুরবাড়ি, আমি শুধাই নারী ছাড়া কোনো বাড়িই কী বাড়ি!  যে দেশেতে দেবীপুজো  পালিত হয় খুশি মনে, সেই দেশেতেই দেবীর সম্মানে এত দ্বিধা জাগেে মনে!  পুরুতান্ত্রিক সমাজ তাই পুরুষকে বড় করে মনে রেখো হে পুরুষ, তোমায় সেই নারীই গর্ভে ধরে। মেয়েরা কি আদৌ পাবে স্বাধীনতা এ জীবনে? হয়তো না। তাই শুনি সব কিছু মেনে নাও সহজ মনে। এমন প্রশ্ন অনেক আছে, রেখে দিয়েছি মনে উত্তর পাওয়াটা কঠিন অনে্‌ তাই,খুঁজছি মনে মনে। *ছাত্রী, ২০২২              ...

Geo নয়, Graphics তবুও জিওগ্রাফি

ছবি
০৯/০৯/২০১৬ তনুজা পাল