বর্তমান বিশ্বব্যাপী মহামারী পরিস্থিতিতে অনুভব ও দৃষ্টিভঙ্গি

২০/১০/২০২০ 

তনুজা গঙ্গোপাধ্যায়

সমগ্র মানব জাতির জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটিয়ে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ হল এক অতি ক্ষুদ্র নোভেল করোনা ভাইরাস,যার কবলে পড়ে সঙ্গীন অবস্থা গোটা বিশ্বেরআমাদের উপরে এ যেন এক করাল আঘাত।অপ্রত্যাশিত দিনগুলির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে সবাইকে।করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল তিনটি মন্ত্র মাস্কিং,সানিটাইজিং ও সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী করে নিতে হয়েছে।

করোনা গোটা বিশ্বের মানবজাতিকে অনেক নতুন ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে। লকডাউনের মতো কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।স্কুল,কলেজ,পার্ক,থিয়েটার,সিনেমা হল,ধর্মীয় স্থানগুলিতে তালা পড়ে গিয়েছিল।সমস্ত রকমের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ছিল।আনলক পর্বে ধর্মীয় স্থান সহ আরও কিছু জায়গায় তালা খুললেও স্কুল,কলেজ আজও তালা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।কবে সব ঠিক হবে? উত্তর জানা নেই কারুর।লকডাউনে অনেকেই আবার নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন,নিজেদের হারিয়ে যাওয়া গুণগুলি সমেত।এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে সামনে থেকে যারা লড়াই করছেন তাঁরা হলেন ডাক্তারবাবু,নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী,পুলিশ এবং সাফাইকর্মীরা,তাঁদের সবাইকে কুর্নিশসারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা করোনার ভ্যাকসিনের সন্ধানে রয়েছেন।করোনা সংক্রমনের ভয় মানুষের মধ্যে শুধু দূরত্বই তৈরি করেনি,বহু মানুষের জীবিকাও আজ সংকটের মুখে।অনেকেই কাজ হারিয়ে বিকল্প জীবিকার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।এই ভাইরাস আমাদের জীবনধারনের পদ্ধতিতে এনে দিয়েছে আমূল পরিবর্তন।কয়েকদিন আগে পর্যন্তও যে স্থানগুলিতে নির্দ্বিধায় মানুষ যাতায়াত করতে পারত আজ সে সবই বন্ধ।পড়াশোনা এইসময় কমপিউটার আর মোবাইলের ফ্রেমে বন্দি। সব বন্ধুরা মিলে  হইহই করে টিফিন ভাগ করে খেতে পারবে না,খেলাধূলাও করা যাবে না।মুখোশের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছে সব আনন্দ।আবার মানুষ শুধু মুখেই মুখোশ পরছেন না, মুখোশ পরছেন মনেও।এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও এমন কিছু কিছু অমানবিক ঘটনা সামনে আসছে যা মানব সভ্যতার ভিতকে নাড়িয়ে দিচ্ছে বারবার।রোগের সাথে লড়াই জারি থাকুক মানুষের সাথে নয়।মানবতাই হল মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্ম,আর এই সময়ে যেটার খুব দরকার।অমানবিকতার ঘটনাগুলি যেমন প্রকাশ্যে আসছে তার সাথে অনেক মানবিকতার সাক্ষীও হয়েছি আমরা। যা প্রমাণ করেছে মানবতার অন্ত এখনও ঘটেনি, জীবিত আছে।করোনার বিষাক্ত ছোবল কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণ,বহু মানুষ তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন।এই কঠিন সময়ে আমাদের একজোট হয়ে থাকা খুব জরুরি, আমারা একজোট হয়ে নিয়ম মেনে থাকলেই হার মানবে এই শত্রু।

ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিনের অনুপস্থিতিতে সর্তকতা এবং মানবিকতাই হয়ে উঠতে পারে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আসল শক্তি।সবাই মিলে মানবতার ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার অঙ্গীকার করি।এই অন্ধকার ঠিক কেটে যাবে। পৃথিবী আবার সুস্থ হবে।আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি আমরা আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারব।

*ছাত্রী, সাম্মানিক পঞ্চম অর্ধবর্ষ 


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যরকম পুজো

নাভাহো (Navajo) উপজাতির সেকাল ও একাল - একটি ভৌগোলিক পর্যবেক্ষণ

বাংলার মানচিত্রের বিবর্তন